সত্যিই খুবই অসহায় লাগছিলো নিজেকে.. - Chakrirbazar job news of india

Post Top Ad

 




Select Your Language

Saturday, September 28, 2019

সত্যিই খুবই অসহায় লাগছিলো নিজেকে..


Image may contain: one or more people, people sitting and indoor
ভাবীর ছোট বোনটা যখনি আমাদের  বাসায় আসে  তখনি যেনো হৃদয়ে বিদ্যুৎ চমকায়। লেখাপড়া বাদ দিয়ে সাউন্ড বক্সে রোমান্টিক সং জোরে সাইন্ড দিয়ে বাজাই।

ভাবী বিষয়টা বুঝতে পারে, মাঝে মাঝে এসে বলে ঢং করোনা দেবর, আমার  বোন এসবে পটবেনা।
আমার  নীল কালারের একটা শার্ট আছে , ভাবী একদিন বলেছিলো নীল শার্ট পরলে আমাকে  দারুন লাগে...


ভাবীর বোনের চোঁখে একটু দারুন লাগার জন্য ওই শার্ট-টাই গত ৭দিন ধরে পরছি। রাতে ধুয়ে রাতেই শুকিয়ে ফেলি। ৮দিনের মাথায় ভাবীর বোন বললো, ভাইয়া আপনার  কি আর  কোন শার্ট নেই? এক শার্ট কতোদিন পরবেন আর ?



কথাটা শুনে লজ্জা আর  রাগ দুটোই হয়েছিলো।
রাগের ঠেলায় প্রতি ঘন্টায় শার্ট পাল্টে দেখিয়ে দিয়েছিলাম আমার  কতো শার্ট আছে .....


ভাবীকে বলেছিলাম তোমার বোন কি খেতে ভালোবাসে.?
ভাবী সেখানেও উল্টো ভেবে বললো, দেখো এক বাড়িতে দুই বোন বউ হিসাবে আসতে  পারেনা। তাই টাংকিবাজী বাদ দাও, নয়তো আমার  বোন কে আর  কখনোই আসতে  বলবোনা...


শুনে মনটা ভিষণ খারাপ হলো। ভাবী কোথায় হেল্প করবে, তা না করে আরো  বাগড়া দিচ্ছে... ধ্যাত
বড় ভাই কে বলা যাবেনা। নয়তো জুতা খুলে মুজা দিয়ে পেটাবে। যা করার আমাকেই  করতে হবে।
পুরুষ মানুষ ভিতু হলে চলেনা। সাহস চাই সাহস।
সোজা প্রপোজ করে দেবো, এক্সেপ্ট না করলে আন্দাজি  হাসাহাসি করে বলবো ফান ছিলো......



ক্যাটবেরি চকলেট দিয়ে প্রপোজ করলাম। বেয়ান আই  লাভ ইউ। কিন্তু ভাবির বোন বললো, আনকমন  টাইপের প্রপোজ করতে পারলে সে ভেবে দেখবে...
কিন্তু আনকমন  টাইপ প্রপোজ খুজেই পাচ্ছিনা.....
তবুও বহুদিনের প্রচেষ্টার মেয়েটিকে আমার  করে নিতে পেরেছিলাম। কিন্তু তা বেশিদিন টেকেনি। কয়েকদিনে মধ্যেই ভাবী জেনে যায়। এবং তাকে খুব গালাগালিও করে। ভাইকেও বলে দেয়, ভাইও আমাকে  প্রচুর বকে।


আমি  বিয়ে করতে চেয়েছিলাম, সবাই রাজি ছিলো, কিন্তু ভাবী কোন ভাবেই রাজি হলোনা। পা ধরতেও চেয়েছি, না মন গলেনি কোন ভাবে। বড় ভাইকে কি কি সব বলে রাগিয়ে দিয়েছিলো.. ভাই তখন খুবই ক্ষিপ্ত হয় এবং বলে নিজেই তো বসে বসে অন্ন গিলছিস, ২টাকা ইনকাম করার মুরদ নাই, আবার  বিয়ের সখ...
এই কথাটা শুনে কেঁদে ফেলেছিলাম।


মেয়েটিও পরিবারের অমতে কিছু করবেনা বলেছিলো।
আমি  তখন নিরুপায়। বাবার সম্পত্তি ভাগাভাগি করতে বলেছিলাম। বাবা বলেছে আমি  মরার পর যা খুশি করিস তোরা। এখন এসব হবেনা। অবশ্য বাবা রাজি ছিলো, কিন্তু ভাবি বলেছিলো তার বোনকে বিয়ে করে আনলে সে বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে এবং ভাইকে ডিভোর্স দেবে...... সত্যিই খুবই অসহায় লাগছিলো নিজেকে..



নিজে কিছু করার জন্য বাড়ি ছেড়ে ঢাকা আসলাম ।
একটাও চাকরিও পেয়েছি। বেতন ভালো....
এবার তো বলতে পারবেনা আমি  বেকার। প্রয়োজনে বিয়ে করে ভাড়া বাসায় থাকবো...
অনেক সাহস ভালোবাসা ভরসা নিয়ে বাসায় গেলাম।
গিয়ে শুনি, ভাবীর বোনের ১মাস আগে  বিয়ে হয়ে গেছে।
আমাকে  জানাইনি কারন তাতে আমি  ঝামেলা করতে পারি। কথাটা শুনে দাড়িয়ে থাকার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলাম। মানুষ কতোটা নিষ্ঠুর হলে এমন করতে পারে......


মেয়েটিও একবার জানাতে পারতো। অবশ্য মেয়েটির কোন দোষ নেই, সে আগেই ই বলেছিলো, তার পরিবার যা করবে সেটাই মেনে নেবে। ভাগ্যটা আমার  বিপরীত ছিলো তাই প্রিয় মানুষটিকে পাওয়া হয়নি..
কেটে গেছে ৫বছর... এই পাঁচ বছরে বড় ভাই ভাবীর সাথে হ্যালো কথাটাও বলিনি। বাবা মাকে দেখতে বাড়িতে যেতাম।


 মা রান্না করলে খেতাম নয়তো হোটেলে গিয়ে খেয়ে আসতাম । বড় ভাই মাঝে মাঝে করুন ভাবে তাকায় আমার  দিকে... আমি  চুপ থাকি... ইচ্ছে থাকা সত্যেও কথা বলিনা.. কোথাও একটা তিক্ততা, একরাশ ঘৃণা, আর মনের মধ্যে জমানো কষ্টগুলো আমাকে বাধা দেয়...
জানিনা এর শেষ কোথায়...!!


বি: দ্রঃ ফেইসবুক থেকে সংগৃহিত। 
আপনার কোনো লেখা আমাদের পাঠাতে চাইলে নাম ঠিকানা সহ  ইমেইল করুন info.nasurl@gmail.com এ। 

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad